পুলিশকে কোনো কোনো সময় টানা ২৪ থেকে ২৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। কিন্তু এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কোনো ভাতা পায় না পুলিশ। কখনো কখনো খাবার না খেয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে তাদের মনোবল ভেঙে যায়। এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ খাবার খরচ বা খোরাকি ভাতা দাবি করেছে।
সোমবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা একটি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভায় দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটনের কমিশনার ও ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনাররা (ডিসি) উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজিপিও উপস্থিত ছিলেন। সভায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবিদাওয়া শোনার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ও কঠোর হতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
সভায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা বক্তব্য দেন। তারা হলেন রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ফারজানা ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ ও খুলনা মেট্রোপলিটনের কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার এবং আইজিপি বাহারুল আলম বক্তব্য দেন। এরপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পুলিশকে ৯ দফা নির্দেশনা দেন। তার বক্তব্যের পর প্রধান উপদেষ্টা পুলিশকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং উন্নতি করতে বক্তব্য দেন।
সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, পুলিশ সদস্য একটানা ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এজন্য তারা কোনো ভাতা পান, খাবার খরচ পান না। কখনো কখনো না খেয়েও দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ সদস্যরা। তারা ক্লান্ত হয়ে যান। তাদের মনোবল ভেঙে যায়। তাই পুলিশ সদস্যদের টানা ডিউটির সময় খাবার ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ছাড়া সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, দেশের সংকটকালেও কাজ করেছে পুলিশ। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। এ জন্য তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। আবাসন সংকট, সময়ঘণ্টা ও গাড়ি সংকট নিয়েও আলোচনা করেন কর্মকর্তারা।
পুলিশের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, পুলিশের তীব্র আবাসন সংকট রয়েছে। মোট পুলিশের ৫ শতাংশেরও কম আবাসন রয়েছে। কনস্টেবল, এএসআই ও এসআইদের আবাসন সংকট সমাধানের প্রয়োজন। ঢাকার আশপাশে তিনি আবাসনের ব্যবস্থার কথা বলেন। থানা পর্যায়ে পুলিশের জন্য কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই, থানা পর্যায়ে তিনি আবাসনের কথা বলেন।
নারী পুলিশ নিয়োগ বাড়ানো এবং পুলিশ সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টারের দাবিও করেন তিনি।
পুলিশকে বিভিন্ন দল, সরকার ও ব্যক্তি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছে উল্লেখ করে পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অনুরোধ জানান।
খুলনার মো. জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, পুলিশকে কাজ করতে দিতে হবে। পুলিশকে প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ পুলিশের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, বাহিনীর বদলি, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়মমাফিক হওয়া উচিত। তিনি পুলিশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং আশা প্রকাশ করেন, সংস্কারের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল হবে।
ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের গাড়ির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে টহল গাড়ি অন্যদের কাছ থেকে ধার করে চালাতে হচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে অনৈতিক তদবিরের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া, মামলা ও জিডির তদন্তের জন্য বরাদ্দ খরচ কমে গেছে এবং অজ্ঞাতনামা লাশের দাফন-কাফনের জন্য কোনো তহবিল পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।