তিন কোটি মানুষকে জেলে নেওয়ার জন্য সরকারকে প্রস্তুত হতে বলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “ফ্যাসিবাদ চলে গেছে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের শিকল এখনো আজহারুল ইসলামকের গাড়ে রয়ে গেছে। ১৩টি বছর কারাগারে থেকে তিনি বহুকিছু হারিয়েছেন। অনেক হয়েছে, এখনি তাকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। না হয় জামায়াত ইসলামীকে সমর্থন করে বাংলাদেশের তিন কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, তাদের জেলে নেওয়ার জন্য প্রস্তত হয়ে যান।”
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল গণ-জমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর লক্ষ্মীপুরে জামায়াতের এই বিশাল গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যে দলের ওপর বেশি নির্যাতন হয়েছে সেটি হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একে একে দলটির শীর্ষ ১০ জন নেতাকে খুন করা হয়েছে। রয়ে গেলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। ফ্যাসিবাদ চলে গেছে ৬ মাস হয়ে গেল। একে একে জাতীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বের হয়ে আসছে। কিন্তু এখনো কারাগারে রয়ে গেলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম।”
জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, “আমি বলেছি আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেওয়া না হলে আমি স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হবো। যতদিন আজহার ভাই কারাগারে থাকবেন, ততদিন আমিও কারাগারে থাকব। আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেওয়ার পর আমি কারাগার থেকে বের হবো।”
শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষ আশা করেছিল ২৪-এর পর সকল দুঃশাসন, দুর্নীতি ও অন্যায় থেকে তারা মুক্তি পাবে। আমরা কি মুক্ত হতে পেরেছি?। আমাদের সন্তানরা একটা বিশাল স্বপ্ন নিয়ে বুক পেতে দিয়েছিল। তারা বুক পেতে দিয়েছিল বুলেটের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ ছিল অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে। পৃথিবীতে যুবকরা কখনো অন্যায় মেনে নিতে পারে না। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। আর এই সংগ্রাম করে হয় শহীদ হয়, না হয় গাজী হয়ে ফিরে আসে।”
জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, “এই আন্দোলন করতে গিয়ে শত শত যুবক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ জীবন দিয়েছে। ৩৪ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। তার পরেও এখনো অন্যায়, অবিচার ও জুলুম রয়ে গেছে। তারা কারা যারা শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছে। আমরা তাদের দল দেখতে চাই না, আমরা তাদের গোত্র দেখতে চাই না। তাদের বলব, আপনারা ভালো হয়ে যান। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।”
শফিকুর রহমান আরও বলেন, “একটি জাহেলি সমাজ পরিবর্তন করে সোনালী সমাজ হয়ে গেল। সেই আদর্শকে যদি আমরা আমাদের সমাজে গ্রহণ করতে পারি তাহলে বাংলাদেশের সমাজও সোনালী সমাজ হয়ে যাবে। অতীতে সোনার বাংলা গড়তে গিয়ে বাংলাদেশকে শ্মশান করা হয়েছে। সোনার বাংলা গড়তে হলে কোরআনের শাসন প্রয়োজন। ইতোমধ্যে বাংলার জমিনে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ। এখন হবে কোরানের বাংলাদেশ। এদেশে যতগুলো ইসলানী দল আছে, ততগুলো ইসলামী দলের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমি ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কথা বলব। এখন পর্যন্ত তারা কোনো চাঁদাবাজি করে নাই, অন্যায় করে নাই, জুলুম করে নাই। তার একমাত্র কারণ, তারা কোরআনকে ভয় করে, তারা আল্লাকে ভয় করেন।”