১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট বাতিল হবে বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ধূম্রজাল তৈরি হয়। তবে এই তথ্য গুজব বলে এর আগেই জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার (১৪ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ১০০০ টাকা মূল্যমানের লাল নোট বা অন্য কোনো নোট অচল হিসেবে ঘোষণা করেনি।” জনসাধারণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য আমলে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “এটা খুব সাধারণ বিষয় নয়। আমরা ভারতের অভিজ্ঞতা দেখেছি ৯৮ শতাংশ টাকা আবার ফেরত চলে আসছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া মুশকিল আছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। এটা করার আগে বড় একটা সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এখনই কিছু বলতে চান না বলে জানান গভর্নর। এই মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময় নয় বলেও জানান গভর্নর।
বাংলাদেশে ১০০০ টাকার নোটের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশে সর্বোচ্চ কাগুজে নোট। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেশি টাকার নোটের সুবিধা ও অসুবিধা দুই দিকই আছে। তবে সমস্যা হচ্ছে বড় নোট থাকায় তা চোরাচালান, অর্থ পাচার, ঘুষ লেনদেনসহ নানা অবৈধ কাজে এ নোটের ব্যবহার বেড়ে যায়। আর এই বড় নোট জালও হয় বেশি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ব্যাংক নোট বলতে ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা চালু রয়েছে। আর ১, ২ ও ৫ টাকার নোট ও কয়েন হলো সরকারের। বাংলাদেশে ১০০০ টাকার নোট চালু হয় ২০০৮ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাজারে প্রচলিত নোটের মধ্যে ১০০০ টাকার নোটের পরিমাণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে। ২০১১ সালেও দেশে মোট ব্যাংক নোটের ২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ ছিল হাজার টাকার নোট। এখন তা অর্ধেকের বেশি।
বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পরসহ মোট দুইবার ১০০ টাকার নোট বাতিল করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল চোরাচালান ও অবৈধ লেনদেন বন্ধ করা বলে জানান বিশ্লেষকরা।