• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩০, ৩ শাওয়াল ১৪৪৬

কুয়াশার বলয়ে ভারতের দূষিত বায়ু ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে


সংবাদ প্রকাশ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৪, ০৫:২০ পিএম
কুয়াশার বলয়ে ভারতের দূষিত বায়ু ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে
ভারত-বাংলাদেশে ছড়িয়ে থাকা কুয়াশার বলয়ে বাড়ছে বায়ুদূষণ। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশ ভারত ঢেকে আছে কুশায়ার বিস্তৃত চাদর। কুয়াশার দীর্ঘ বলয় তৈরি হয়েছে রাজধানী দিল্লি ও উত্তর প্রদেশ হয়ে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে। কুশায়ার এই বলয়ে ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল।

আবহাওয়াবিদদের মতে, কুয়াশার সঙ্গে বায়ুদূষণের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দূষিত বায়ুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়া কুয়াশা অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে দূষণ বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তসীমান্ত দূষণের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় উৎসগুলো মিলিয়ে বায়ুদূষণ বাড়িতে তোলে।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, সর্ব উত্তরের জেলাগুলোতে শীত জেঁকে বসেছে। আর এমন শীতে কুয়াশা পড়া সবেমাত্র শুরু। সময় যতই গড়াবে কুয়াশায় পরিমাণ ততই বাড়বে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেশী ভারতের আন্তসীমান্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়া কুশায়ার চাদর বিস্তৃত হচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুদূষণ বা দূষিত বায়ুও সীমান্ত পার হয়েছে ঢুকে পড়ছে প্রতিবেশী দেশে।

গত দুদিন ধরে শীত বাড়তে শুরু করেছে রাজধানীতে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জে। যা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজধানীতে হঠাৎ করেই যেমন শীত পড়েছে, তেমনি কুয়াশার দাপটও চোখে পড়ছে। গত দুইদিনে ঢাকায় কুয়াশা আরও বেশি পড়েছে। আর এর মধ্যেই দুঃসংবাদ দিয়েছে আইকিউএয়ার। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকা একেবারে শীর্ষে উঠে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বাতাসের মান সূচকে শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) ঢাকার স্কোর দেখা গেছে ২৬২। আর ২১৭ স্কোর নিয়ে বায়দূষণে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি। অর্থাৎ বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতে যেমন কুয়াশা বেড়েছে তেমনি বায়ুদূষণও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। শুধু ঢাকাতেই নয়, উত্তরের অনেক জেলায় কুশায়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে বায়ুদূষণও।

গ্রিনসিটিখ্যাত উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে গত ৮ ডিসেম্বর থেকে হঠাৎ করেই শীত নেমেছে। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। বিকেল পড়তেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই কুয়াশার চাদর ঘন হয়ে আসছে। রাত যত বাড়ছে শিশির ঝরছে বৃষ্টির মতো। অনেক বেলা পর্যন্ত সূর্য ঢাকা থাকছে।

সূত্রমতে, সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকেই শীতের সঙ্গে কুয়াশা বাড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে আশপাশের জেলাগুলোতেও। বর্তমানে পঞ্চগড়, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই শৈতপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

সপ্তাহ খানেক পর উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া আসছে জানুয়ারিতে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রিতে নামতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফলে তীব্র শীতে ঘন কুয়াশার চাদর বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে বেড়ে যেতে পারে বায়ুদূষণ। তীব্র শীতের বিপর্যয়ের সঙ্গে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বায়ুদূষণ।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!