আর কয়েক দিন পরেই মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে নতুন পোষাক। আর এ জন্য রাজধানীর বিপনি বিতানগুলোতে বেড়েছে বেচা-বিক্রি। সাধ্যের মধ্যে যে যার মতো পছন্দের পোষাক কিনছেন।
ঈদকে ঘিরে উচ্চবিত্তরা লাখ লাখ টাকা বাজেট করে নামিদামি শপিং মলে গেলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভরসা ফুটপাত।
বুধবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর সদরঘাট, গুলিস্তান, সায়দাবাদ, নিউ মার্কেট ও ফার্মগেট ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকায় ফুটপাতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য নতুন জামাকাপড় বিক্রি হচ্ছে। জামা, শার্ট, সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিসসহ নানা ধরনের পোশাক রয়েছে দোকানগুলোতেও। পাওয়া যাচ্ছে জুতাও।
রাজধানীর সায়দাবাদে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মো. সিরাজ মিয়া। পাশেই ফুটপাতে পোষাক বিক্রি করতে দেখে নাতনির জন্য লাল রঙের একটি জামা পছন্দ করেন। পরে দোকানির সঙ্গে দামাদামি করে ৪০০ টাকায় কেনেন। সংবাদ প্রকাশকে তিনি বলেন, “নাতনি ফোনে কইছে, লাল জামার কথা। ভাবছিলাম বাড়ি গিয়ে কিনে দেব। কিন্তু এখানেই দেখি বাচ্চাদের জামা পাওয়া যাচ্ছে। সে জন্য দেখেশুনে একটা জামা কিনেই ফেললাম। নাতনি খুব খুশি হবে। ঈদ তো ওদেরই। আসলে, পরিবারের সদস্যদের হাসিমুখ দেখলেই ভালো লাগে।”
এদিকে গুলিস্থানের বেশ কয়েকটি সড়ক এখন হকারদের দখলে। ‘ব্যাইছা লন ১০০, দেইখ্যা লন ১০০, জোড়া লন ৩০০’-এমন হাকডাকের মধ্যে চলছে ঈদের পোশাক বিক্রি। পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট, প্যান্ট, থ্রি-পিস, শাড়ি, লুঙ্গি, জুতা, ব্যাগ, আতর, টুপি সবই মিলছে এখানে।
বিক্রেতারা জানান, তারা মধ্যবিত্ত মানুষের কথা বিবেচনা করে কম দামে পোশাক বিক্রি করছেন, যাতে বিভিন্ন আয়ের মানুষজনও সাশ্রয়ী মূল্যে ঈদের নতুন পোশাক কিনতে পারেন।
সালমা খাতুন একজন সরকারি কর্মকর্তা বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। ঈদের কেনাকাটার জন্য আধা বেলা ছুটি নিয়ে ফার্মগেটে এসেছেন। ফুটপাতের দোকানগুলো ঘুরে পছন্দের পোশাক খুঁজছিলেন।
সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমি প্রতিবার এখান থেকে কাপড় কিনি। অনেক দোকান ঘুরে পছন্দের কাপড় কিনি। দামও কম। ভালো লাগে। দুটি কাপড় কিনেছি, আরও দুটি কিনবো। ঈদে বাড়ি যাবো। নিজের এবং আত্মীয়স্বজনের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে হবে।”
রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে মায়ের সঙ্গে নিউ মার্কেটে এসেছেন তানিয়া আক্তার। কিন্তু প্রায় চার ঘণ্টা ঘুরেও তাদের বাজেটের মধ্যে কোনো পোশাক পাননি। তাই ফুটপাতের দোকান থেকে ঈদের কেনাকাটা করার পরিকল্পনা করছেন এই মা-মেয়ে।
তানিয়া আক্তার আক্তার বলেন, “শপিং মলে একদাম, ফুটপাতেও অনেক দোকানে একদামে কেনাবেচা চলছে। পছন্দ হলে দামে বনে না, আবার যেগুলো দাম কম সেসব আবার পছন্দ হয় না। গত বছরও একটা ওয়ান পিস জামা ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে কেনা যেত, এখন ফুটপাতেও এই ধরনের জামার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতি পিসে ১০০-২০০ টাকা। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবার পড়েছি বিপদে।”
মো. রুবেল নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “ঈদে সবসময়ই চেষ্টা করি মা-বাবা, ভাই-বোনদের জন্য কিছু কেনাকাটা করার। এখানে দরাদরি করে কম দামে কেনা যায়। একই জিনিস বড় মার্কেটে গেলে দাম বেশি পড়বে। আমাদের বাজেটের মধ্যে ফুটপাতেও ভালো জিনিস পাওয়া যায়। তাই এখানে আসা।”