ইংরেজি নববর্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো ক্ষতিকর দিক এবং জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় আইন করে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদ্যাপন নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক।
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) জুমার বয়ানে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, বর্ষপূর্তি পালন ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলাম আমাদেরকে প্রত্যেক দিন, প্রতি রাত এবং প্রতি মুহূর্তকে উদযাপন করতে বলে। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হাদিসে এসেছে, যখন সকাল হয় তখন সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। আর যখন সন্ধ্যা হয় তখন সকালের অপেক্ষা করো না। তাই ইসলামের নেয়ামত পেয়েও বিধর্মীদের সংস্কৃতি ধার নেওয়া আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা।
থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে তিনি বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটের এই উদযাপন পদ্ধতিও অনর্থক এবং অযৌক্তিক পদ্ধতি। আতশবাজি পোড়ানো ও প্রচণ্ড শব্দে পটকা ফুটানোর কারণে হাসপাতলে অসুস্থ রোগীরা কষ্ট পায়, বাসাবাড়িতেও বয়স্ক এবং শিশুরা কষ্ট পায়। কোটি কোটি অর্থের অপচয় ঘটে। এমনকি সাম্প্রতিক সময় নারী ও শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় রাষ্ট্রের উচিত আইন করে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন নিষিদ্ধ করা।
রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দ্বীনের সঠিক জ্ঞান থাকে, তাহলে তারা সব সময় শুধু জনগণের আগ্রহ ও চাওয়াকেই প্রাধান্য দিবে না; বরং তাদের প্রয়োজন ও উপকারকে প্রাধান্য দেবে। মানুষ যা করতে চায় তাই করতে দিলে দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
নববর্ষ পালনের অসারতা সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেকে পুরোনো বছরের হিসাব ও নতুন বছরের পরিকল্পনা সাজানোর জন্য নববর্ষ উদযাপনের কথা বলেন। এই কথাটি শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে ভিত্তিহীন কথা।
তিনি বলেন, মুমিনের জীবন বছরভিত্তিক নয়; দিন ভিত্তিক। এ জন্য আরবিতে দিন এবং রাতকে নতুন বলে অভিহিত করা হয়েছে। যেই দিন ও রাত চলে গেছে তা আর কখনো ফিরবে না। তাই প্রতিটি দিন এবং প্রতিটি রাতকেই মূল্যায়ন করতে হবে।
মাওলানা আবদুল মালেক বলেন, আমরা ‘সময়’কে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করি। আজকাল করতে করতে এক সময় চুল দাড়িতে পাক ধরে। চুল ও দাড়ি সাদা হওয়া জীবনের শেষপ্রান্তে উপনীত হওয়ার নিদর্শন। কিন্তু তা একদিনেই ঘটে না। আমাদেরকে সময়ের মূল্য দিতে হবে এবং আল্লাহ তায়ালা জীবনের যে নেয়ামত দিয়েছেন, তার যথাযথ হক আদায় করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন, আল্লাহ রাত ও দিনকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের শিক্ষা গ্রহণ এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার জন্য। হাদিসের শিক্ষা হলো, প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় দোয়া পাঠ করা। সকাল সন্ধ্যার দোয়ার সারমর্ম হচ্ছে, আল্লাহর প্রতি আত্মনিবেদন এবং এবং তার হুকুম অনুযায়ী জীবন যাপন করা।