রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এটি একমাত্র রমজান মাসেই বিশেষভাবে আদায় করা হয় এবং এটি সুন্নতে মুআক্কাদা। তারাবির নামাজ রাতের সালাতের অন্তর্ভুক্ত হলেও এটি এশার নামাজের পরেই আদায় করা হয়।
তারাবির নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব
তারাবির নামাজ একটি বিশেষ ইবাদত যা মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক বরকত ও সওয়াবের সুযোগ এনে দেয়।
আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে (তারাবি) কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" (বুখারি ও মুসলিম)
কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত
তারাবির মাধ্যমে মুসল্লিরা পুরো রমজান মাসে কুরআন শরিফ শোনার সুযোগ পান। অনেক মসজিদে খতম তারাবির মাধ্যমে পুরো কুরআন একবার বা একাধিকবার খতম করা হয়।
সুন্নাতে মুআক্কাদা ইবাদত
তারাবি নামাজ সুন্নাতে মুআক্কাদা, যা রাসুল (সা.) নিয়মিত আদায় করতেন এবং সাহাবাদেরও তা আদায়ের আদেশ দিয়েছেন।
তারাবির নামাজের রাকাত সংখ্যা
হাদিস অনুযায়ী, রাসুল (সা.) কখনো ৮, কখনো ১১, আবার কখনো ১৩ রাকাত নামাজ আদায় করেছেন।
পরবর্তীতে সাহাবারা ২০ রাকাত পড়ার নিয়ম চালু করেন, যা অধিকাংশ মুসলিম দেশে প্রচলিত।
অধিকাংশ ইসলামিবিদদের মতে, তারাবির নামাজ ২০ রাকাত পড়া উত্তম, তবে কেউ ৮ বা ১০ রাকাত পড়লেও তারাবি আদায় হয়ে যাবে।
তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম
োনিয়ত করা
তারাবির নামাজ শুরু করার আগে নিয়ত করা জরুরি। নিয়ত করা যায় দুইভাবে:
বাংলায় নিয়ত:
"আমি দুটি রাকাত তারাবির নামাজ পড়তে চাই, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, কেবলামুখী হয়ে আল্লাহু আকবার।"
আরবিতে নিয়ত:
"উসাল্লি রাকআতাইনি সুন্নাতাত তারাবিহি লিল্লাহি তাআলা।"
নামাজের ধাপ
তারাবির নামাজ মূলত এশার ফরজ ও সুন্নত আদায়ের পর শুরু হয়। প্রতিবার দুই রাকাত করে পড়তে হয়। প্রতিটি দুই রাকাতের নামাজের নিয়ম হলো:
প্রথম তাকবির: "আল্লাহু আকবার" বলে নামাজ শুরু করুন। এরপর সানা পড়ুন: "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা…"। সুরা ফাতিহা পড়ুন
এরপর কুরআনের যেকোনো ছোট সূরা বা আয়াত পাঠ করুন (যেমন সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক বা সুরা নাস)। রুকু ও সিজদা সম্পন্ন করুন এবং দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ান। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়ুন। রুকু ও সিজদা করে শেষ বৈঠকে বসে আতাহিয়াতু, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ুন। দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন। এভাবে প্রতি দুই রাকাত করে ২০ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়।
তারাবির নামাজ পড়ার সময় ও স্থান
তারাবি নামাজ এশার নামাজের পর থেকেই শুরু হয় এবং ফজরের আগ পর্যন্ত পড়া যায়। এই নামাজ মসজিদে জামাতে আদায় করা উত্তম। তবে কেউ চাইলে ঘরে একা বা পরিবারসহ জামাতে পড়তে পারেন। নারীরা চাইলে ঘরেও তারাবির নামাজ আদায় করতে পারেন। তারাবির নামাজের পর বিতর নামাজ আদায় করা সুন্নত। এটি ৩ রাকাত হয়ে থাকে এবং এশার নামাজের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।
বিতর নামাজের নিয়ম:
২ রাকাতের পর তাশাহহুদ পড়ে উঠে তৃতীয় রাকাত শুরু করতে হয়। তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একটি ছোট সূরা পড়ে হাত উঠিয়ে কুনুত দোয়া পড়তে হয়। এরপর রুকু ও সিজদা করে নামাজ শেষ করা হয়।
তারাবির নামাজের সুন্নত ও করণীয় বিষয়সমূহ
তারাবির নামাজ ধীরে ধীরে পড়া উত্তম, দ্রুত তিলাওয়াত বা নামাজ শেষ করা উচিত নয়।
পুরো রমজান মাসে তারাবির নামাজ নিয়মিত আদায় করা উচিত। কুরআন খতমের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়া বরকতময়। তবে পুরো কুরআন না শুনলেও নামাজ পূর্ণ হবে।
মসজিদে জামাতে পড়লে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তবে একা পড়লেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
তারাবির নামাজে আল্লাহর নৈকট্য ও গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা উচিত।
নারীদের জন্য তারাবির নামাজ
নারীরা বাড়িতে একা বা পরিবারের অন্যদের সঙ্গে জামাতে তারাবির নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদে গিয়ে পড়লেও ইসলামী শালীনতা বজায় রাখা জরুরি। তারাবির নামাজ সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।