চুলের নানা সমস্যার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে উকুনের সমস্যা। বড়-ছোট সবার মাথার চুলেই কমবেশি উকুন বাসা বাধে। চুলের খুশকি নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, উকুন নিয়ে ততটা খোলামেলা আলোচনা করা হয় না। কারণ মাথার চুলে উকুন থাকা অনেকের কাছেই বিব্রতকর। আবার এটি বিরক্তিকরও বটে। বিশেষ করে ছোটদের মাথার চুলে উকুন হলে বেশি সমস্যা হয়। সারাক্ষণ নখ দিয়ে চুলকাতে থাকে। এক সময় মাথার ত্বকে ইনফেকশনও হয়ে যেতে পারে।
ছোট্ট বাচ্চা থেকে শুরু করে স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদেরও উকুন হয়। বাচ্চারা নিজে থেকে বুঝতে পারে না মাথায় উকুন ঘুরছে। কিন্তু উকুনের কামড়ে বিরক্ত হতে থাকে। এই অবস্থায় অনেক বাবা মা বাচ্চাকে ন্যাড়া করে দেন। ছোট বয়সে ন্যাড়া করলে হয়তো বাচ্চাদের মন খারাপ হয় না। কিন্তু বড় বাচ্চাদের ন্যাড়া করলেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। তাই চুল ন্যাড়া না করে ঘরোয়া টোটকায় বাচ্চাদের মাথা থেকে উকুন তাড়ান। চলুন জেনে নেই, কীভাবে উকুন থেকে রেহাই মিলবে।
পেট্রোলিয়াম জেলি
বাচ্চার স্ক্যাল্পে ভালো করে পেট্রোলিয়াম জেলি মাখিয়ে দিন। পেট্রোলিয়াম জেলির গন্ধে উকুন মরে যাবে। পেট্রোলিয়াম জেলি ঘণ্টা খানেক রেখে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন। মরা উকুন বেরিয়ে যাবে।
রসুন পেস্ট
রসুন পেস্ট করে স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। রসুনের মধ্যে সালফেট রয়েছে, যার ঝাঁঝালো গন্ধে উকুন মরে যাবে। কয়েক কোয়া রসুন বেটে স্ক্যাল্পে ২০ মিনিটের মতো লাগিয়ে রাখুন। এর পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। উকুন মরে যাবে।
টি ট্রি অয়েল
উকুন দূর করতে টি ট্রি অয়েল বেশ কার্যকর। এতে
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। যা উকুন তাড়াতে উপযোগী। স্ক্যাল্পে সরাসরি টি ট্রি অয়েল মাখা যাবে না। এটি স্ক্যাল্পের ক্ষতি হবে। নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে ১০ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে স্ক্যাল্পে মাখতে হবে। টি ট্রি অয়েলের গন্ধ ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণে উকুন মরে যাবে।
নিম পাতা ও নিম তেল
নিম পাতা বেটে বা নিম পাতার গুঁড়ো পানিতে গুলে বাচ্চার স্ক্যাল্পে মাখুন। এর সঙ্গে টক দই মিশিয়ে নিতে পারেন। আবার বাচ্চার স্ক্যাল্পে সরাসরি নিম তেল মাখতে পারেন। টানা ৩ দিন মাথায় নিম পাতা বা নিমের তেল মাখলেই উকুন দূর হবে।