তেলাপিয়া মাছ খেয়ে হাত-পা হারালেন মার্কিন নারী


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৩, ০৪:৫৭ পিএম
তেলাপিয়া মাছ খেয়ে হাত-পা হারালেন মার্কিন নারী
তেলাপিয়া মাছ খেয়ে অঙ্গ হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের এক নারী দূষিত মাছ খেয়ে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে চারটি অঙ্গ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসের ৪০ বছর বয়সী নারী লরা বারাজাস ঠিকভাবে রান্না না হওয়া তেলাপিয়া মাছ খাওয়ার পর সংক্রমণে আক্রান্ত হন। অস্ত্রোপচার করে তার জীবন বাঁচানো গেলেও, লরার একাধিক অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়।

লরার বন্ধু আনা মেসিনা গণমাধ্যম ক্রোনকে বলেন, “এটি আমাদের সবার জন্য সত্যিই কঠিন ছিল। এটি ভয়ানক। এটি আমাদের যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে।”

মেসিনা জানান, সান জোসের একটি স্থানীয় বাজার থেকে লরা মাছটি কিনেছিলেন। পরে বাড়িতে রান্না করে তা খেয়ে লরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মেসিনা আরও বলেন, “তিনি(লরা) প্রায় জীবন হারাতে যাচ্ছিলেন। তিনি শ্বাসযন্ত্রের মধ্যে ছিলেন। তাকে মেডিক্যালি ইনডিউসড কোমায় রাখা হয়েছিল। তার আঙ্গুল, পা, নিচের ঠোঁট কালো হয়ে গিয়েছিল। তার সম্পূর্ণ সেপসিস হয় এবং কিডনি কাজ করছিল না।”

এক মাস হাসপাতালে থাকার পর লরা বর্তমানে তার হাত ও পা ছাড়াই বেঁচে আছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মেসিনা বলেন, লরা ভিব্রিও ভালনিফিকাস নামক একটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত হয়েছিলেন। এই সংক্রমণ সম্পর্কে ইউএস সিডিসি সতর্ক করছে।

সিডিসি বলছে, প্রতি বছর প্রায় ১৫০-২০০টি সংক্রমণের ঘটনা রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং সংক্রমণে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন মারা যাচ্ছেন, কখনও কখনও অসুস্থ হওয়ার এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই।

ইউসিএসএফ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ নাতাশা স্পোটিসউড বলেন, “আপনি যেভাবে এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত হতে পারেন, এক- আপনি এটি দ্বারা আক্রান্ত কিছু খেতে পারেন, আর অন্য উপায় হল একটি ক্ষতস্থান বা ট্যাটু ব্যাকটেরিয়াপূর্ন পানির সংস্পর্শে রাখা।”

তিনি আরও বলেন, ব্যাকটেরিয়াটি বিশেষ করে যারা ইমিউনোকমপ্রোমাইজড তাদের জন্য উদ্বেগজনক।

মেসিনা জানান, তিনি ও লরার পরিবার কী ঘটেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি তার বন্ধুর চিকিৎসা ব্যয় সাহায্য করার জন্য একটি গোফান্ডমি হিসাব খুলেছেন। এখন পর্যন্ত তাতে ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ সংগৃহীহ হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভাগের আরো খবর

Link copied!