পবিত্র রমজান মাস শুরু। এই মাসজুড়ে মুসলিমগণ রোজা রাখেন। প্রতিদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারে বিরত থাকেন। র্ধর্মীয় রীতি অনুসারে রোজা পালন করেন। রমজান মাসে ৩০ দিন রোজা রাখলে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে শরীরের অনেক উপকারও হয়।
দেহ ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ থাকে
রোজা রাখলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে। দেহ ঘড়ি নিয়মিত চক্রের মতো চলে। যা ঘুম-জাগরণ চক্র, হরমোন উৎপাদন এবং বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। রোজা রাখলে সেই ঘড়ি নিয়ন্ত্রণে থাকে। যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
হজমশক্তি বাড়ে
রোজা রাখলে দীর্ঘ সময় খাবার থেকে বিরত থাকা হয়। এতে পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায়। লিভার থেকে এনজাইম নিঃসরণ হয়। শরীরের চর্বি ও কোলেস্টেরলকে ভেঙে বাইল এসিডে রুপান্তর হয়। যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করে। করে। রোজা রাখলে পাকস্থলী ও অন্ত্র পরিস্কার হয়।
ওজন কমে
এক মাস রোজা রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি ঝরে যায়। অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়ে যায়। তাই দ্রুত ওজন কমে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
রোজা রাখলে শরীরে নতুন শ্বেত রক্তকনিকা উৎপত্তি হয়। তা আরও বেশি কার্যকরী হয় এবং কঠোর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় পর খাবার গ্রহণের কারণে শরীরে স্টিম সেল নামের কোষ পুনরুদ্ধার হয়। এতে লাল ও শ্বেত রক্ত কনিকা ও প্লাটিলেট থাকে, যে কারণেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।
রক্তচাপ কমায়
রোজা রাখলে সারাদিন না খাওয়ার কারণে শরীর লবণ গ্রহণ করে না। পাশাপাশি ইউরিন বা মূত্রের সঙ্গে লবণ বের হয়ে যায়। তাই রক্তচাপ কমে আসে।
শরীরের চর্বি কমে
রোজা রাখলে শরীরে হিউম্যান গ্রোথ হরমোন নামে একটি হরমোন উৎপন্ন হয়। যা শরীরের চর্বি গলাতে সাহায্য করে।
হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়
রোজা রাখলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমান হ্রাস পায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
শর্করার পরিমাণ কমে
গবেষণায় দেখা গেছে, টানা রোজা রাখলে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা উন্নত করতে পারে । এতে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সহজেই রোজা রাখতে পারেন।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়: রোজা রাখলে মস্তিষ্ক আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে ও প্রোটিন উৎপাদন বাড়ায়। ফলে স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটে।