গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে ৩ দিনের মধ্যে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ই-মেইলে শো মোশন লিমিটেডের (যা স্টার সিনেপ্লেক্স নামে পরিচিত) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ঠিকানায় অ্যাডভোকেট হাসান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের স্বত্বাধিকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে আগামী ৩ দিনের মধ্যে শো মোশন লিমিটেডকে আর্থিক, মানসিক এবং আইনগতভাবে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন করায় ক্ষতিপূরণ বাবদ নগদ এক কোটি টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন ও বিধি অনুসারে শো মোশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ভোক্তার মহাপরিচালককে বলা হয়েছে। অন্যথায় উচ্চ আদালতে রিট দায়েরসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, শো মোশন লিমিটেডের কাছ থেকে অনলাইনে ঢাকার সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সে ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে “চক্কর ৩০২” সিনেমা দেখার জন্য দুটি টিকিট কেনেন খন্দকার হাসান শাহরিয়ার।
তিনি সিনেমার টিকিটও সংগ্রহ করতে চাইলে সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের “চক্কর ৩০২” সিনেমার শো বাতিল করা হয়েছে। অনলাইনে কেনা টিকিটের মূল্য বিকাশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে।
লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে শো মোশন লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে মোবাইলে ফোনকল করে জানান, টেকনিক্যাল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের “চক্কর ৩০২” সিনেমাটি সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখতে কোনো অসুবিধা হবে না। ওই কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে সিনেমার টিকিট সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সের কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে বলেন। একই সঙ্গে এ-ও নিশ্চিত করেন যে, অনলাইনে কেনা টিকিটের টাকা রিফান্ডের কোনো নিয়ম শো মোশন লিমিটেডে নেই।
এরপর ১ এপ্রিল দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে ফোনকল করে শো মোশন লিমিটেডের আরেক কর্মকর্তা জানান, আজকের “চক্কর ৩০২” সিনেমাটি সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বাতিল করা হয়েছে। অনলাইনে কেনা টিকিটের টাকা বিকাশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। এসময় তিনি ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় তাকে করা ওই ফোনকলটির বিষয়ে জানালে ওই কর্মকর্তা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
নোটিশে আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যথাযথ মনিটরিংয়ের ব্যর্থতার কারণেই শো মোশন লিমিটেডের হলগুলোতে সিনেমা দেখার টিকিট অনলাইনে অগ্রিম কেনার পরও জনগণ তথা গ্রাহকদের হয়রানি হতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এবং নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় ইচ্ছেমতো খাবারের দাম নির্ধারণ করে দিনের পর দিন গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। কিভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন নোটিশে তা উল্লেখ করেন ওই আইনজীবী।