বলিউড স্টার সাইফ আলী খানের ওপর হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে শরিফুল ইসলাম শেহজাদকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। তবে গণমাধমকে শরিফুলের বাবা বলেছেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি তার ছেলে শেহজাদ হলেও সিসিটিভি ফুটেজে যাকে দেখা গিয়েছিল, সে অন্য কেউ। তার ছেলে নন।
শরিফুল ইসলামের বাবা রুহুল আমিন ফকির মুঠোফোনে জানিয়েছেন, ‘আমার ছেলে কেমনে করল, আমি তা বুঝে উঠতে পারছি না। সিসিটিভিতে যে ছেলেটিকে দেখছি, সে আমার ছেলে নয়। পুলিশ যাকে গ্রেপ্তার করেছে, সে-ই আমার ছেলে। সিসিটিভিতে যে ছেলেটিকে দেখা যাচ্ছে, তার মুখের ধরন আর চুলের স্টাইলের সঙ্গে আমার ছেলের কোনো মিল নেই। আমার ছেলে উলটে চুল আঁচড়াত। কপাল পর্যন্ত চুল রাখত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর মার্চ-এপ্রিল নাগাদ শরিফুল ঝালকাঠির বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। পরে জানতে পারি ও ভারতে আছে। তবে ভারতের কোথায় আছে, অতশত বুঝতাম না। মাসের ১০ তারিখে শরিফুল মাইনে পেত। আর আমাদের প্রত্যেক মাসের ১২ তারিখের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পাঠাত।’ শরিফুলের সঙ্গে শেষ কবে কথা হয়েছিল? এমন প্রশ্নের উত্তরে রুহুল আমিন বলেন, ‘গত শুক্রবার রাতে শরিফুল আমাকে ফোন করেছিল। জিজ্ঞেস করেছিল, “আব্বা কেমন আছ?” এরপর আরও কিছু কথা হয়। আমি এমনিতে কম কথার মানুষ। তাই বেশি কথা হয়নি। তার পর থেকে আর ওর গলা শুনতে পাইনি।’
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর, অভিযুক্ত শরিফুল বাংলাদেশের জেলা ও জাতীয় স্তরের কুস্তিগির ছিলেন। এ কথা বলতে অবাক হলেন রুহুল আমিন ফকির। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঝালকাঠিতে কুস্তির তেমন প্রচলন নেই। তাই ওর কুস্তি করার প্রশ্ন নেই। ঈদের সময় দু–একবার হয়তো কুস্তি করেছে। আমাদের রাজধানী ঢাকাতে কুস্তি হয়। তবে শরিফুল ফুটবল খেলত। আর ও এসএসসি পাস করেছিল।’
ঝালকাঠিতে কী করতেন শরিফুল? তার বাবা জানান, ‘আমি ওকে একটা মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম। সেটা চালিয়ে যাত্রী আনা–নেওয়ার কাজ করত।’ হতাশার সুরে তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর স্তরের মানুষ হলেন শাহরুখ খান, সালমান খান, সাইফ আলী খানরা। তার মতো মানুষের মামলায় ওকে জড়িত বলা হচ্ছে।
আমি বুঝে উঠতে পারছি না, কী হবে। কখনো আমার ছেলের নামে কোনো অভিযোগ বা নালিশ শুনিনি। আমি চাই, আমার ছেলে সঠিক বিচার পাক। ভারতে আমাদের কেউ নেই। আমরা খুব অসহায়। আমরা শুধু আল্লাহর ভরসায় আছি। ওনার কাছে আমরা সবাই দোয়া করছি। আমাদের আর্থিক পরিস্থিতি ভালো নয়। আজ আমার ছেলে কি বিচার পায়, দেখি। ভাবছি দু-এক দিনের মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাব। আমার তিন ছেলে। শরিফুল হলো দ্বিতীয় সন্তান।’
শরিফুল এখনো বিয়ে করেননি বলেও জানান তার বাবা। শরিফুলের আইনজীবী সন্দীপ শেখানে বলেছেন, অভিযুক্ত যে বাংলাদেশি, তার কোনো প্রমাণ নেই। পুলিশের দাবি যে অভিযুক্ত ছয় মাস আগে মুম্বাইতে এসেছেন। এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনজীবীর দাবি, শেহজাদ সাত বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে মুম্বাইতে আছেন। সন্দীপ শেখানে আরও বলেছেন, অভিযুক্তের নাগরিকত্ব বদল করে পুলিশ এ মামলার ফোকাস ঘোরাতে চাইছে। তার দাবি, শরিফুলের কাছ থেকে পুলিশ কোনো কিছু উদ্ধার করতে পারেনি।