কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের চার ছাত্রীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ করেছেন হলের অন্য শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই চার ছাত্রীকে হলের বাইরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মাদক সেবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় শিক্ষার্থীদের শাসানোর অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনীতি-শান্তি হলে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর নাম রাবিনা ঐশি ও লাবিবা ইসলাম।
সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাদক সেবনের সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যা ৬টায় হলের সি ব্লকের কয়েকটি রুমে যান ওই দুই শিক্ষার্থী। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চান অভিযোগপত্রে কে কে স্বাক্ষর করেছে। শিক্ষার্থীরা হ্যাঁ-সূচক স্বীকারোক্তি দেন। তখন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লাবিবা ইসলাম ও একই বিভাগের রাবিনা ঐশি তাদের হুমকিধমকি দেন।
হুমকির রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। রেকর্ডে লাবিবাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি ছাত্রলীগ করে খেলে আসছি, এখনো খেলে দেব, আস। তোদের মতো পতিতা না যে মেয়ে নিয়ে রুমে রুমে যাব। তোদের সবাইকে দেখে নেব, সব বের করব।
তার সঙ্গে থাকা রাবিনা ঐশি বলেন, ‘গাঁজা লাগবে গাঁজা? গাঁজা দিতে আসছি।’ তাদের এমন উদ্ধত আচরণে হলের শিক্ষার্থীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লাবিবার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে হুমকি দেই নাই, আমি বাহিরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলাম। আমার সঙ্গে একজনে একটু উলটাপালটা কথা বলছিল, আমি তার সঙ্গে চিল্লাপাল্লা করেছি। আমি হলের কোনো মেয়ের সঙ্গে চিল্লাপাল্লা করিনি।’
অভিযুক্ত রাবিনা ঐশী বলেন‚ ‘আগামীকাল আমার পরীক্ষা। আমার পাশের ব্লক থেকে আমার বন্ধুরা আসছিল। আমাদের মধ্যে নিউজটা নিয়েই কথা হচ্ছিল। আমি সার্কাস্টিক হয়েই জোরে জোরে বলেছিলাম ‘আমরা তো গাঁজা খাই। গাঁজা লাগবে‚ গাঁজা?’ তখন আর আমি এক্সাক্টলি কী বলেছি সেটা মনেও নেই।’