শিক্ষা সফরের বাসে ডাকাতির ঘটনার আরও দুইজন গ্রেপ্তার


টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম
শিক্ষা সফরের বাসে ডাকাতির ঘটনার আরও দুইজন গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলে ঘাটাইলে শিক্ষা সফরের ৩টি বাসে ডাকাতির ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি পিকআপ গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রংপুরের শফিকুল ইসলাম শরিফ (১৯)ও রূপন চন্দ্র ভাট (২৪)। এ নিয়ে পুলিশ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করল।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ প্রথমে লুণ্ঠিত মালামালসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা স্থানীয় ডাকাত হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারদের ভিকটিমের মাধ্যমে যাচাই করে এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পরে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর সদর এবং বাসান এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত শফিকুল ইসলাম শরিফ এবং রূপন চন্দ্র ভাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন এবং ডাকাতিতে কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তাররা বর্তমানে পুলিশের রিমাণ্ডে রয়েছে। অন্য চারজন বর্তমানে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত অন্য ৫ জন গত শনিবার (১ মার্চ) পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া থানায় একটি বাড়িতে ডাকাতি ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে। তাদের শোন এরেস্ট দেখিয়ে টাঙ্গাইলে আনা হবে।”

উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোর পৌনে ৪টার ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলাার সোয়াইতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা শিক্ষা সফরের জন্য চারটি বাস নিয়ে নাটোরের গ্রীনভ্যালি পার্কের উদ্দেশে রওনা হন। ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের লক্ষণের বাধা এলাকায় পৌঁছালে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে বাস থামায় একদল ডাকাত। পরে ১০/১২ জনের ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৩টি বাসের থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে।

এসময় বাসের যাত্রী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার আগেই ডাকাত দল পালিয়ে যায়। ডাকাতরা নগদ দেড় লাখ টাকা, এক ভরি স্বর্ণ, ১০টি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মারধরের শিকার হয়েছেন ওই বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর সাখাওয়াত হোসাইন রবিন ও অভিভাবক শহিদুল্লাহ তালুকদার। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

Link copied!