• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩০, ৩ শাওয়াল ১৪৪৬

প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর আদায়


সংবাদ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৫, ০৮:৪৫ এএম
প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর আদায়
ছবি : সংগৃহীত

একদল উত্তেজিত মানুষ প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর আদায় করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ঝালকাঠিতে ১৫ ছাত্রীকে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জেল হোসেনকে পিটিয়ে পদত্যাগপত্র আদায় করা হয়। আহত প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জেল হোসেনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নথুল্লাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় উপস্থিত ঝালকাঠি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রীদের পেটানোর ঘটনায় উত্তেজিত জনতা প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করে পদত্যাগে বাধ্য করেন। এ ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জেল হোসেনকে আহত অবস্থায় নিজের গাড়িতে করে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান তিনি। পরে চিকিৎসকেরা সেখান থেকে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায় ।

এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি-সমর্থিত নেতা-কর্মীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জেল হোসেনের বিরোধ চলছিল। কমিটির সাবেক সদস্যরা আওয়ামীপন্থী থাকায় তারা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন। তাই জেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস নতুন করে কমিটি করার নির্দেশনা দেয়। প্রধান শিক্ষক আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে সভাপতির নাম প্রস্তাব করে জেলা প্রশাসকের কাছে সম্প্রতি কমিটি দাখিল করে বলে অভিযোগ। এ নিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবী আল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। গতকাল বুধবার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমানের কাছে ছাত্র ও অভিভাবকেরা একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে প্রধান শিক্ষক কিছুটা ক্ষুব্ধ হন।

ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছাত্রীদের অংশগ্রহণে নাচ-গানের মহড়া চলছিল। দুপুরে প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জেল হোসেন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নাচের মহড়ায় ভুল করার অজুহাতে অন্তত ১৫ ছাত্রীকে বেত দিয়ে পেটান। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কয়েকজন ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনে অভিভাবক ও এলাকাবাসী ছুটে আসে। পরিস্থিতি খারাপ দেখে প্রধান শিক্ষক নিজের কক্ষ বন্ধ করে বসে থাকেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জেল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে অন্যায়ভাবে লাঞ্ছিত করে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।’ 

স্বদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!