আর কয়েক দিন পর মুসলামদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে বাড়ি ফিরছেন লাখ লাখ মানুষ। এদিকে প্রতিবারের মতো এবার ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে নেই যানজটের ভোগান্তি। মানুষ স্বস্তিতে যাচ্ছে বাড়িতে। তবে কিছু কিছু পরিবহন মালিকরা বাস ভাড়া বাড়ানোর কারণে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। তাই খরচ বাঁচাতে কম টাকায় খোলা ট্রাক ও পিকআপে গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাস স্টেশন, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। বাস ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, বিভিন্ন সড়কের লোকাল বাস, লেগুনায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। মহাসড়কে বাসের চেয়ে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলই বেশি দেখা গেছে।
রাশেদ নামের এক যাত্রী বলেন, “আমি বগুড়া যাবো। ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসলাম কোনো যানজট পাইনি। স্বস্তিতেই বাড়ি যাচ্ছি।”
সজীব মিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, “বাড়ি যেতে আমাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। এলেঙ্গা পর্যন্ত আসলাম ভালোভাবেই। গাড়ি স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। পরিবহন সংকটের জন্য অনেকেই ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি যাচ্ছেন।”
এলেঙ্গা বাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা রাবেয়া খাতুন বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি গাড়ি পাচ্ছি না। গাড়ি পেলেও ভাড়া দ্বিগুণ চাচ্ছে। ভাড়া বেশি চাচ্ছে এই জন্য যাচ্ছি না। এখন পিকআপের জন্য অপেক্ষা করছি।”
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, “মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো যানজট নেই। মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচল করছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে।“
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষকে স্বস্তি দিতে সাড়ে ৭’শ পুলিশ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত এবং জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য তীব্র গরমকে উপেক্ষা করতে মহাসড়কে পরিশ্রম করছেন।”
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, “সড়কপথে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “গত কয়েকদিনে যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলেও যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত, সেনাবাহিনী ও র্যাবসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন।”