নওগাঁর খাল-বিল থেকে ১০-১২ বছর আগে জোঁক ধরে এনে চাষ শুরু করেন রানীনগরের কাশিমপুর স্কুলপাড়া গ্রামের মানিক মন্ডল। বর্তমানে তার ১০০টি জোঁক রয়েছে। বর্ষাকালে সেটি বেড়ে ২ থেকে আড়াই হাজারে পৌঁছে। যার এক-একটির ওজন হয় প্রায় ১৫০-২০০ গ্রাম।
প্রতিটি জোঁক ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি করে থাকেন মানিক। তার কাছ থেকে কিনে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার কবিরাজ ও বিউটি পার্লারের লোকজন। এর তেল শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জীবিত অবস্থায় নানা চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে থাকে।
মানিক মন্ডল জানান, তার সাত বছরের শিশুকন্যা সাদিয়াকে শিখিয়েছেন জোঁককে রক্ত খাওয়ানো, সময় সময় জোঁকের পানি পরিবর্তন ও পরিষ্কার করার কাজ। জোঁকগুলো বালতিতে রেখে এলাকার কসাইয়ের কাছ থেকে গরু ও ছাগলের রক্ত কিনে আনেন। এরপর বাড়িতে এ রক্ত প্রায় ঘণ্টাখানেক পাত্রে রাখলে জমাট বেধে যায়। পরে জমাট বাঁধা রক্ত বালতিতে দিলেই চুষে খেয়ে নেয় জোঁক। এভাবে ১৫-২০ দিন পরপর রক্ত খাওয়াতে হয়। তবে জোঁক চাষে তেমন কোনো পরিশ্রম বা বাড়তি খরচ নেই। এখানে নেই কোনো ওষুধের ঝামেলা। ফলে খুব অল্প পরিমাণ টাকায় কেনা জোঁক এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই প্রতিটির ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম করা যায়।
মানিক মন্ডলের ভাষ্যমতে, ১ কেজি জোঁক দেড় বছর চাষ করতে সাকুল্যে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি করা যায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। জোঁক এবং জোঁকের তেল বিক্রি করেই চলে তার ৪ সদস্যের সংসার।
এ বিষয়ে রানীনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “জোঁকের প্রজনন মূলত প্রাকৃতিকভাবে হয়ে থাকে। এটা খুবই লাভজনক। এই প্রথম মানিক মন্ডল বাড়িতে জোঁক চাষ করছেন।”