পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বন্দীদের জন্য স্বজনদের বাড়ি থেকে আনা খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছে লালমনিরহাট জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বন্দীদের দেখতে আসা স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ এবং কারাগারের পক্ষ থেকেও বন্দীদের দেওয়া হচ্ছে বিশেষ খাবার।
লালমনিরহাট কারাগার চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা বন্দী থাকা স্বজনের জন্য বাড়িতে রান্না করা পোলাও, মাংস ও মিষ্টান্নসহ বিভিন্ন খাবার নিয়ে এসেছেন। পরে সেগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে কারাকর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রতিটি খাবার পরীক্ষা করে কারারক্ষীরা স্বজনের কাছে তা পৌঁছে দেয়। উন্নতমানের খাবারের পাশাপাশি বন্দীদের জন্য বিভিন্ন উপকরণ ও কারাগারে আগত বন্দীদের স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ সহ নানা আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২ এপ্রিল) ঈদের তৃতীয় দিন বিকেলে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে বন্দীদের উন্নত মানের খাবার দেয়ার পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মহিলা বন্দীদের মায়ের সঙ্গে শিশু, দুঃস্থ অসহায় বন্দী ও মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দীদের মাঝে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী সামগ্রী, জামা ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। বন্দীদের আত্মীয়স্বজনদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত ফুল, শিশুদের চকলেট ও তৃষ্ণার্থ দর্শনার্থীদের দিচ্ছেন বিশুদ্ধ খাবার পানি। পাশাপাশি বন্দীদের বাসা থেকে রান্না করা খাবার ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত জমা নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। প্রত্যেক বন্দীদের আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে সাক্ষাৎ এমনকি মোবাইলে কথা বলার সুযোগ দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজনে খুশি বন্দীদের সঙ্গে দেখা করাতে আসা স্বজনরা। এজন্য তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলা কারাগারের কর্তৃপক্ষকে।
কারাগারের বাইরে বন্দীদের সঙ্গে দেখতে আসা সদর উপজেলা বড়বাড়ি ইউনিয়নের ৬০ বছরের জেলেখা খাতুন জানান, পারিবারিক কলহের কারণে তার ছেলে জাহেদুল (৩২) ৬ মাস থেকে জেলে রয়েছেন। তার সঙ্গে দেখা করতে ঈদের তৃতীয় দিন বাসার রান্না করা খাবার দিতে পাড়ছি, কোনো ঝামেলা হয় নাই। এজন্য তাকে কোনো ঘুষ দিতেও হয়নি। কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজন দেখে আমরা খুশি।
কথা হয় কারাগারে বন্দী থাকা কয়েকজন কয়দীর সঙ্গেও। তারা জানান, সমগ্র কারাগারের সার্বিক চিত্র পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে এখন আর সমস্যা নেই। ঈদের দিন ভালো খাবার দিয়েছেন, ঈদের নামাজের সুব্যবস্থা করেছেন। তারা বন্দী ও কারা কর্তৃপক্ষ মিলে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছে। তাদের স্বজনদের দেওয়া বাসার খাবার কোনো সমস্যা ছাড়াই খুব সহজেই পেয়েছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেলার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহীল ওয়ারেস বলেন, “ডিআইজি প্রিজন্স রংপুর, জেলা প্রশাসক, ও জেল সুপারের সময়োপযোগী দিক নির্দেশনা মেনে আগামীতে ভালো কাজের এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং লালমনিরহাট কারাগার একটি আধুনিক সংশোধনাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”