কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ডেনিম প্রসেসিং প্লান্ট নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও কারখানায় ভাঙচুর চালায়। এসময় কারখানার পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন সহ কয়েকজন ম্যানেজারের উপর তারা চড়াও হয় এবং পরিচালকের মাথায় আঘাত করে আহত করে। পরে তার মাথায় চারটা সেলাই দিতে হয়।
সকালে সড়ক অবরোধকালে শ্রমিকরা গণমাধ্যমকে জানান, দুই মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। এ মাসে তাঁদের মাত্র ছয় হাজার টাকা করে বেতনের অংশ দেওয়া হয়। এতে তাঁদের ঘর ভাড়া দেওয়া দূরের কথা, খাবারের টাকাও হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তাঁরা মহাসড়কে নেমেছেন।
তবে কারখানার পরিচালক, আহত মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন সংবাদ প্রকাশকে জানান, শ্রমিকরা গণমাধ্যমকে ভুল ও মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তিনি বলেন, “পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী গতকাল এবছরের জানুয়ারি মাসের বেতন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যাংক থেকে যে টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তা না পাওয়ায় আমরা তাদের আংশিক বেতন দেই। শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বকেয়া নেই। শুধু জানুয়ারির আংশিক বেতন বাকি। ওই বেতন আমরা বলেছি আগামী ৫ মার্চের ভেতর দিয়ে দেব। এই কথায় তারা রাজি হয় এবং আংশিক বেতন নিয়ে গতকাল চলেও যায়। কিন্তু আজ সকাল সাড়ে নয়টায় উচ্ছৃংখল কিছু কর্মচারীর প্ররোচনায় কয়েকজন শ্রমিক ও বহিরাগত কারখানায় ভাংচুর শুরু করে।"
পরিচালক আলমগীর আরো জানান, এই সময় আশি ভাগ শ্রমিক কাজে ফিরতে চাইলেও, একটি অংশ তাদের নিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করে। তাদের থামাতে চাইলে কতিপয় শ্রমিক মোহাম্মদ আলমগীরের উপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, “আমরা অন্য কারখানা মালিকদের মতো নই। আমরা পালিয়ে যাইনি। বরং শ্রমিকদের পাশে থেকে তাদেরকে আমাদের অবস্থা বোঝার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা কোনো কিছুতেই কিছু মানেনি। উল্টো বাইরে থেকে ত্রিশ-চল্লিশজন বহিরাগত এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। ভাংচুর চালায়। লুটপাট করে। আর আমার উপর হামলা চালায়। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ধ্বংসের জন্য এটা একটা চক্রান্তের অংশ।”
হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা। সংবাদ প্রকাশকে তিনি জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। বেতন দেয়ার পর কারখানা খোলা হবে। আর এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।