• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৮ শা'বান ১৪৪৬

চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে ৪ সমন্বয়ককে অবরুদ্ধ


রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫, ০৪:৫৮ পিএম
চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে ৪ সমন্বয়ককে অবরুদ্ধ

রাজশাহীর বারিন্দ মেডিকেল কলেজে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চার সমন্বয়ককে অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বরিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।

চার সমন্বয়ক হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মেসকাত শিশু (২৭), রাজশাহী জেলা কমিটির মুখ্য সংগঠক সোহাগ সরদার (২৬), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ বারী (২৫) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব (২৭)।

তাদের দাবি চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তায় আওয়ামী লীগ নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করতে তারা বারিন্দ মেডিকেল কলেজে গিয়েছিলেন। পরে তারা আওয়ামীপন্থীদের মবের শিকার হন।

জানা গেছে, বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। হাসিনা সরকার পতনের পরে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তার বাবা শামসুদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির এমডি।

বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন বলেন, “সোমবার তারা এসে অফিসের সচিবের সঙ্গে দেখা করে গেছেন। তাদের দাবি জানতে তাদের সঙ্গে আমার বসার কথা ছিল। তবে তারা এসে সরাসরি এমডির কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা এসে বিভিন্ন রকম কথা বলেছেন। সবার নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এ সময় তারা ক্ষমা চেয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন।”

রাজশাহী জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আল আশরারুল ইমাম তানিম বলেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবা ওই মেডিকেল কলেজের এমডি। এখনো কীভাবে সেখানে তিনি এমডি আছেন! এ বিষয় নিয়েই তারা কথা বলতে গিয়েছিল। তবে তাদের কথা বলার অ্যাপ্রোচ ঠিক ছিল না। যেহেতু ওই কলেজের ছাত্রদের ক্লাস চলছিল, ছাত্ররা মনে করেছিল সেখানে অন্য কিছু বলছে তারা। এই জন্য তাদের অবরুদ্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে সেখানে মব ক্রিয়েট হয়। পরে শিক্ষার্থীদের সামনে ওই চারজন তাদের অ্যাপ্রোচের জন্য ক্ষমা চায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদেরকে উদ্ধার করে।

এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মেশকাত মিশু বলেন, “গত কয়েকদিন বারিন্দ মেডিকেল কলেজ থেকে আমাদের কাছে বেশকিছু অভিযোগ আসে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাবার আশ্রয়ে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সেখানে কর্মরত রয়েছেন। চলমান ডেভিল হান্ট অপারেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে আমরা সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে যাই। প্রতিষ্ঠানটির সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা প্রিন্সিপাল ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন অফিস স্টাফ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ঢুকে পড়েন এবং আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির বাইরে মব তৈরি করে আমাদের আটকে ফেলা হয়।” অনতিবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

স্বদেশ বিভাগের আরো খবর

Link copied!